25%
ছাড়
বিস্তারিত
রৌদ্রজ্বলা করোটি
কবিতা সাহিত্যের প্রাণ এবং সুন্দরের প্রকাশ। কবিতা শিল্পের মহোত্তম শাখা হিসেবেও পরিগণিত। কবিতার মধ্যে শিল্প ও সাহিত্যের যে অমিয়—সুধা বিদ্যমান সেই রস আস্বাদনের নেশায়, ভালোবাসায় কবিতার সাথে আমার বিচরণ, আমার ছুটে চলা। কবিতার সাথে আমার অনন্ত যোগ, আমার সখ্য, আমার পথ চলা। হাজার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আর্তনাদ ফুটে উঠেছে ‘রৌদ্রজ্বলা করোটিতে।’ কাব্যগ্রন্থটিতে কখনো প্রেম, বিরহ, কখনো স্নিগ্ধতা, কখনো তেজোময়, কখনো দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, উদাসীনতা একাকীত্ববোধ, উচ্ছ্বাস, কখনো হৃদয়ের টলমল জলে ভেসে যায় জীবনের পারাবার। ‘রৌদ্রজ্বলা করোটিতে’ যেমন সময়ের দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তেমনি কবিতাগুলো সময়ের অক্ষরস্রোতে ভেসে উঠেছে একটি জলপদ্মের পাপড়ি মেলে। পৃথিবীর তাবৎ রূপ—রস, গন্ধের স্পর্শ ‘রৌদ্রজ্জ্বলা করোটিতে’ স্পষ্ট করবার চেষ্টা করেছি। কাব্যগ্রন্থটিতে প্রায় ৬৩টি কবিতা স্থান পেয়েছে। কবিতাগুলো যদি পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে তবে গ্রন্থটি সার্থক হয়েছে মনে করব।
---শীলা প্রামাণিক
রৌদ্রজ্বলা করোটি
রৌদ্রজ্বলা করোটিতে আজ বিদ্রƒপ আর হাহাকার
মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই, অনাদরে চৌচির হৃৎপদ্ম পুকুর!
ক্ষণিকের এই পৃথিবীর রৌদ্র—রুদ্র তাপ সয়ে যাব
তবু তোমাদের সুখের জন্যে বয়ে যাব
তিক্ততার সুনিবিড় জ্বালা।
তোমাদের সুখের চেয়ে আমার কোনো গন্তব্য নেই
তোমাদের মঙ্গলের লাগি আমার হৃদয়ের আলোক—অঞ্জলি
ঢেলে দিতে চাই তোমাদের করকমলে।
আমি চলে যাব বহুদূরÑদূর থেকে আরো দূরে।
আমার নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, ঘরবাড়ি—সংসার নেই,
সাকিন নেই, চলে যাব তোমাদের ছেড়ে অজানায়Ñঅন্ধকারে।
তোমরা ভালো থেকো বন্ধু, সুশৃংখল হও, বিবেকবান হও
নীতিবানÑমানবিক হও, তোমরা অমরাবতী হও।
আমার সব স্বপ্ন ভেঙেচুরে সেই ভিতের ওপর
তোমাদের স্বর্গ রচিত হোক।
রৌদ্রজ্বলা নিস্ফলা করোটিতে আজ হাহাকারÑ
দগ্ধ আজ অন্তরে—বাহিরে,
আমার করোটি জুড়ে ঘুণেপোকা দাঁত কাটে দিনরাত।
পথশিশুর জন্য একমুঠো অন্নের সংস্থান করে যেতে পারিনি,
সুশৃংখল জীবনের জন্য রেখে যেতে পারিনি
একটি সভ্য সমাজ—সভ্যতা,
রৌদ্রজ্বলা করোটিতে একটিও ঘাসফুল ফোটেনি!
খুব অসময়ে প্রস্থান আমার ।
পৃথিবী ভালো নেই
হাজারো দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে পৃথিবী
দিনের আলো ঠেলে মৃত্যুদূত হয়ে রাত নামে
পৃথিবীর আকাশে।
নিদারুণ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বিশুষ্ক পৃথিবী
হেঁটে চলে অনাদিকালের যাত্রায়।
অনন্তকাল ধরে আরোগ্য লাভের আশায়
বিরামহীন মুহূর্তগুলো স্থির হয়ে আছে।
সময়ের কাছে আকুল সুপারিশ
সময়ের স্রোতে ভেসে যাবার তোরণদ্বারে
কোনো এক নিদ্রাহীন প্রহরী চেতনার প্রদীপ হাতে
একঝাঁক জাগ্রত সৈন্যবাহিনী নিয়ে
পথ রোধ করে দাঁড়াক।
চলমান চেতনার অনুকূলে কেউ দাঁড় টানুক,
প্রতিকূলতা ছাপিয়ে
কিছুটা রৌদ্রের ঝিলিক এসে পড়ুকÑ
অনিশ্চিত অন্ধকারময় এ ধুলার ধরিত্রীর বুকে।
আলোকের রথে পৃথিবী যাত্রা করুক
দূরের আলোর হাতছানি সম্মুখে।
দেখো ওই পথে অনন্ত সম্ভাবনা
চলো, যাত্রা করি আলোকদীপ্ত পৃথিবীর পথে;
রহস্যময় ঘোর অন্ধকার কুহেলিকা সেঁঁচে মেঘ কেটে যাবে।
আতপ্ত পৃথিবীর বুকে
হিমেল শীতল কুয়াশার চাদর আবৃত করে
পৃথিবী আবার শান্ত হবে।
পৃথিবীর শরীর থেকে দূরারোগ্য ব্যাধি
মুছে যাবে একদিন,
অঁাধারের ছাউনি উড়ে একসময় ঊষার আলো আসবে
জোছনার আলোয় ভেসে যাবে রাতের বুক।
একটি নতুন পৃথিবীর অভিষেক হবেÑ
ঝাঁক বেঁধে স্বপ্ন নেমে আসবে রাতের চোখে।
আমি বাংলার, বাংলা আমার
আমি পুণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট, বরেন্দ্র, হরিকেল থেকে
হেঁটে চলেছি অজানা জনপদে।
হাঁটছি তো হাঁটছি দিগন্তের পথে
এক ক্লান্তিহীন পথে মানুষেরে ভালোবেসে
মানুষের সাথে থাকি গা ঘেঁষে—ঘেঁষে।
আমার রয়েছে একবুক ভাষা,
আমার রয়েছে কত আশা—ভালোবাসা!
আমি হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের মিতালি করি,
করিনি স্বর্গ—নরকের খেঁাজে মাটি খেঁাড়াখুড়ি
আমি মোহনীয় সুখ আস্বাদনে যতটা পারি হৃদয়কে মেলে ধরি।
আমার দুচোখ ছুটে যায় অনন্তের পথে
আমি দূর নীলিমার পথে হেঁটে যাই।
আমার বুকের জমিনে নাম লেখা বাংলার
আমি ফিরে—ফিরে চাই এই বাংলায় বারংবার।
আমি বাংলার, বাংলা আমার প্রাণÑ
আমার কন্ঠে বাংলার গান।
আমি বাঙালির—আমি এদেশের
আমি ইতিহাসের পাতা উলটে এসেছি এতটা পথ।
আমাকে বলো না হিন্দুÑনা মুসলিম;
কিংবা বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের দেওয়াল তুলে আমাকে বিভক্ত করো না।
আমাকে কেটে—ছিঁড়ে ধর্মকে আধমরা করো না।
আমার রয়েছে মানুষের সুখে, মানুষের দুখে
হাতে—হাত রেখে চলা অভিক্ষেপ।
ধর্ম—বর্ণ, গোত্র, নিচুজাত, অভিজাত ভেদাভেদ টেনে
আমার অস্তিত্বকে বিপন্ন করো না,
আমার রয়েছে বুকভরা অহংকার, আমি বাংলার।
আমি মানুষেরে ভালোবেসে এসেছি এতটা পথ
পুন্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, হরিকেল, সমতটÑ
প্রাচীন জনপদের গা—বেয়ে এসেছি এই বাংলায়।
আমি হেঁটে যেতে চাই আগামীর সম্মুখে
মানুষের সাথে মানুষের পাশে সুখে—দুখে।
মায়া—মমতায় জড়াজড়ি করি, হাতে রাখি হাত,
আমি প্রাচীন জনপদের মাটি খুঁড়ে ফলায়েছি সফলতার ধান
আমিই গড়েছি ইতিহাস, আমিই গেয়েছি সভ্যতার গান
আমি বাংলার, বাংলা আমার প্রাণ।
আমি বাঙালির আমি এদেশেরÑ
আমি পায়ে—পায়ে এসেছি ইতিহাসের পথ ধরে।
আমি হেঁটে যাব আগামী জনপদে
জীবনের অভিমুখে।
যে কথা তোমাকে বলা হয়নি
জীবনের গন্তব্যহীন যাত্রাপথে যে কথা শুরু করেছিলামÑ
যে কথা তোমাকে বলা হয়নি।
যে কথা আমি বলতে চেয়েছিলাম
একই কথা হয়তো তুমিও বলতে চেয়েছিলে
সে কথা আজও বলা হয়নি।
আমার ঠেঁাটের দরজা থেকে কতবার যে ফিরে গেছে
সে কথা জানেন অন্তর্যামী!
যদিও তোমার জানার কথা ছিল
কিন্তু তুমি জানতে চাইলে না!
তোমার উষ্ণ করতলে ঢেলে দিতে চেয়েছিলাম প্রগাঢ় ভালোবাসা
যা ছিল সুশীতল ঝরনার মতো স্বচ্ছ প্রবহমান।
তোমার প্রত্যাশার মায়াবী উঠানে
ব্যতিক্রম কিছু রোদ্দুর ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
তোমার অনিদ্রার দীর্ঘ রজনী
ঘুমের পারাবার বানিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
আমি তোমার বঞ্চনার পৃথিবী প্রেমময়—প্রাণময়
ছন্দময় কবিতায় ভরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
তোমার চক্ষু যুগলে ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলামÑ
কুচকুচে মেঘবরণ নীলের স্বচ্ছতা।
তোমার কপোলে এঁকে দিতে চেয়েছিলাম
আকাশ স্পর্শ করা উদাসী শুভ্র স্নিগ্ধতা।
তোমার বুকের বাম পাশে গেঁথে দিতে চেয়েছিলাম
আমার হৃৎপিণ্ডের নকশিকাঁথা।
শুধু আক্ষেপ কী জানো? তুমি এসবের কিছুই চাইলে না!
তুমি আমার দিকে ছুড়ে দিলে একবুক ঘুটঘুটে অন্ধকার।
আজ আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি
আকাশের বুক থেকে খসে পড়ে একটা দুটো করে
বেদনার তারা।
Reviews (0)
Get specific details about this product from customers who own it.
This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.
Books & Magazine
50-60% price reduction
Gadget & Electronics
Home & Appliance
Accessorise
Cleaning Supplies
Fashion & Lifestyle
Toys Kids & Baby
Health & Beauty
Super Sale