10%
ছাড়
বিস্তারিত
পৃথিবীর পথে পথে
সায়েন্স ফিকশন
বৃহৎ সংকোচন
মহাকাশযানের বিশাল স্ক্রিনের সামনে হতাশাজনক অপ্রকৃতস্থভাবে দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে রুন মহাকাশযানের কেন্দ্রীয় কম্পিউটারকে দ্বিতীয়বারের মতো জিজ্ঞেস করল, ‘সিসি, তুমি কি নিশ্চিত হতে পেরেছ এটা কোথায়?’
‘মহামান্য রুন, আমি স্ক্যানিং চালিয়ে যাচ্ছি। আমার আরও কিছু সময় প্রয়োজন। মহাকাশের এই জায়গাটা আমাদের পরিচিত এলাকার সাথে মিলছে না। আমার ডাটাবেজে যে ম্যাপিং দেয়া আছে তার সাথে এখনও মিলাতে পারছি না।’ যান্ত্রিক সুরে সিসি বলে গেল।
রুন ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ে।
লীহা ৩৮৭ বানমগ্রহ থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি নিয়ে রুন তার নিজ গ্রহে ফিরছিল। রুন মহাকাশবিজ্ঞানী নয়, তবে বহুবার আন্তঃগ্যালাকটিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। মহাশূন্যযান কোন মানুষ ছাড়াই ফিরছিল। বহুদিন ঘরের বাইরে থাকার জন্য সে তার আপনজনের প্রতি এক ধরনের আদি টান অনুভব করতে থাকে। আর তাই মহাকাশযানের নিঃসঙ্গ যাত্রী হিসেবে সে চেপে ওঠে।
সবকিছু ঠিকভাবে চলছিল। যখন সে তার গ্রহ থেকে মাত্র এক বিলিয়ন মাইল দূরে, ঠিক তখন কাছাকাছি কোথাও একটা সুপারনোভা বিষ্ফোরণ ঘটে। তীব্র বিকিরণ মহাকাশযানে আঘাত হানে। যেহেতু এই মহাকাশযানে ইতিপূর্বে মানুষ চলাচল করেনি, তাই মানুষের জন্য বিকিরণ মোকাবেলার ক্ষেত্রে অতটা শক্তিশালী হিসেবে তৈরী করা হয়নি।
ফলশ্রম্নতিতে প্রচণ্ড বিকিরণের হাত থেকে বাঁচার জন্য হাইপার ডাইভ দিতে হয়। যেহেতু বিকিরণের সময় প্রথমেই মহাকাশযান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে, সেহেতু হাইপার ডাইভের ক্যালকুলেশনে কিছুটা এদিক—সেদিক হয়ে মহাশূন্যযানটি এই অজনা স্থানে এসে পরেছে।
‘মহামান্য রুন,’ সিসি জানাতে থাকে, ‘আমরা হয়তো মহাশূন্যের একেবারে নিঃসঙ্গ এলাকায় এসে পৌঁছেছি।’
‘বুঝতে পারলাম না।’
‘আমাদের কাছাকাছি এক হাজার কোটি মাইলের মাঝে কোন গ্রহ, নক্ষত্র, অ্যাস্টরয়েড, এমন কি কোন উল্কা পর্যন্ত নেই। আমি এখানে আসামাত্র চারদিকে বেতার তরঙ্গ পাঠিয়েছি। এটা কোথাও প্রতিফলিত হয়ে এখনও ফিরে আসেনি।’
রুন চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। ‘প্রয়োজনে হলে আবার হাইপার ডাইভ দাও।’
Ñ আমাদের হাতে যে পরিমাণ জ্বালানি আছে তা দিয়ে মাঝারি মানের একটি, আর খুব বেশী হলে তারপরও ছোট একটি হাইপার ডাইভ দিতে পারব।
Ñ আমাদের ফিরে যাবার জন্য কি এই দুইটা হাইপার ডাইভই যথেষ্ট না?
Ñ যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি ঠিকমত ম্যাপিং করতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত হাইপার ডাইভ দেয়া সন্তোষজনক নয়। কারণ এরপর হয়তো আর অল্পকিছু জ্বালানিই অবশিষ্ট থাকবে।
Ñ আর কতক্ষণ লাগবে তোমার এই ম্যাপিং করতে?
Ñ এখনও বুঝতে পারছি না। হয়তো এক ঘন্টা কিংবা একশত ঘন্টাও লাগতে পারে। মহামান্য রুন, আপনি এই সময়টুকুতে বিশ্রাম নিতে পারেন অথবা কোন আকর্ষণীয় চলচিত্র দেখতে পারেন।’
রুন বলে উঠল, ‘বিশ্রাম নিতে যাচ্ছি। সুযোগ হলে খানিকটা ঘুমিয়ে নেব।’
সিসি বলল, ‘মহামান্য রুন, আমি কি আপনার শয়নকক্ষের অক্সিজেনের সাথে খানিকটা যেওন ৮২ গ্যাস মিশিয়ে দেব। আপনি খুব ভালো কিছু স্বপ্ন দেখতে পেতেন।’
Ñতার কোন প্রয়োজন নেই।’
রুন তার শয়নকক্ষের দিকে হাঁটতে থাকে।
শয়নকক্ষে পৌঁছামাত্র রুন তার শরীর বিছানায় এলিয়ে দেয়। বিছানার পার্শ্বে মহাকাশযানের বিশাল মোটা কাচ। সে শুয়ে একদৃষ্টিতে নিকষ কালো মহাশূন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। একসময় তার চোখের সামনে একটা বিশাল খোলা প্রান্তর ভেসে ওঠে। রুন ঘুমিয়ে পড়ে।
একটা বিশাল খোলা প্রান্তরের ভিতর দিয়ে কুয়াশাভেজা সকালবেলা কারও হাত ধরে রুন হাঁটতে থাকে। যতটা বেলা বাড়তে থাকে, রুন ও তার সঙ্গী তবুও হাঁটতে থাকে। একসময় সন্ধ্যা হয়ে আসে। আকাশে হাজার তারার খেলা চলতে থাকে। তারা দু’জন খোলা প্রান্তরে শুয়ে তারার খেলা দেখতে থাকে। হঠাৎ হঠাৎ আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত দু—একটা উল্কা ছুটে চলে। রুন অনেক চেষ্টা করে তার সঙ্গীর দিকে তাকাতে কিন্তু পারে না। সে অবাক বিস্ময়ে ভাবতে থাকে সঙ্গীটা কে। হঠাৎই আকাশ থেকে তীব্র গতিতে কিছু একটা তাদের দিকে ছুটে আসে। তারা দুজনই ছিটকে দুদিকে চলে যায়।
রুনের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল। রুনের মনে হতে থাকে কতটা জীবন্ত সে স্বপ্ন!
ঘুম ভাঙ্গার পরও সে দেখতে পায়, সে মহাকাশযানের কাঁচঘেরা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে।
রুন আবারও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎই তার মনে হয়, কোথাও কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ধরতে পারে না।
কিছু না বুঝতে পেরে যখন সে সিসি—কে ডাক দেবে ঠিক তখনই বুঝতে পারে ঘুমাবার আগে মহাশূন্যকে তার যতটা নীকষকালো মনে হয়েছিল, এখন অতটা কালো মনে হচ্ছে না। গভীরভাবে খেয়াল করলে সামান্য একটু নীলাভ লাল রঙ অনুভব হয়। সে সিসিকে ডাক দেয়Ñ
‘সিসি, মহাকাশে কি ঔজ্জ্বল্যতার পরিবর্তন লক্ষ্য করছ? আবার কি কোন সুপারনোভা?’
Ñ না মহামান্য রুন, এটা সুপারনোভার বিস্ফোরণের ঔজ্জ্বল্য নয়।
Ñতাহলে?
Ñ আমিও সেটা বুঝতে পারছি না। সুপারনোভার হলে বিকিরণ ধরতে পারতাম। কিন্তু এখানে সেরকম কিছু নেই।
তারপর হঠাৎ করেই সিসি বলে ওঠে, ‘মহামান্য রুন, একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটেছে। আমি যতগুলো বেতার তরঙ্গ পাঠিয়েছি একটা নির্দিষ্ট দিক থেকে তার প্রতিটি এইমাত্র একসাথে ফেরত এসেছে। তারমানে ওই দিকে একটা বিশাল কোন কিছুর অবস্থান আছে।’
Ñ সেটা কোন দিকে?
Ñ এটা কী করে সম্ভব?
Ñ আমিও বুঝতে পারছি না মহামান্য রুন।
ইতিমধ্যে মহাশূন্যের ঔজ্জ্বল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সিসি বলে, মহামান্য রুন, ‘ইতিমধ্যে মহাশূন্যের তাপ এবং এই অংশের ভর উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আমাদের সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও তথ্যের বিপরীত।’
রুন খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলে, ‘সিসি আমি একটা সন্দেহ করছি। হয়তো আমরা সেটার শুরুটা দেখছি।’
Ñ মহামান্য রুন, আপনি যা বুঝতে চাচ্ছেন আমি সেটা বুঝতে পারছি।
Ñ হ্যাঁ সিসি, মহাবিশ্বের ইতিহাসে সর্বশেষ ঘটনা তাহলে শুরু হয়ে গেছে আর আমরা এই মুহূর্তে মহাবিশ্বের সে সীমানায় আছি, সেখান থেকে বৃহৎ সংকোচণ শুরু হয়েছে।
Ñ মহামান্য রুন, আমি হাইপার ডাইভের সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ফেলেছি।
রুন মহাকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, ‘আমরা হাইপার ডাইভ দিলে আমাদের এলাকার পৌছানোর সম্ভাবনা কতটুকু?’
Reviews (0)
Get specific details about this product from customers who own it.
This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.
Books & Magazine
50-60% price reduction
Gadget & Electronics
Home & Appliance
Accessorise
Cleaning Supplies
Fashion & Lifestyle
Toys Kids & Baby
Health & Beauty
Super Sale