25%
ছাড়
বিস্তারিত
লেখক পরিচিতি
জাকির সরকার পেশায় একজন চিকিৎসক, বক্ষব্যাধি বিষয়ের অধ্যাপক। মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার ছোট রায়পাড়া নামের ছোট্ট একটি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৪ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। মেঘনা নদীর কোল ঘেষে গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামের টিনের চালের বাঁশের বেড়ার প্রাইমারি স্কুলে শিশু বিভাগে অধ্যয়ন শেষে তিনি সপরিবারে রাজধানী ঢাকা শহরে চলে আসেন। বিদ্যালয়ের লম্বা ছুটিতে প্রায়ই বাবা-মায়ের সাথে গ্রামে বেড়াতে যেতেন। একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি গ্রামে অবস্থান করেন। গাঁয়ের ছেলে-মেয়েদের সাথে নদীতে সাঁতারকাটা, নৌকা চালানো, জমিতে লাঙল চালানো থেকে শুরু করে জমির আগাছা নিড়ানো, মই দেওয়া, ধান বুনা, মাছ ধরা সব কিছুতেই আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতেন। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে অটো প্রমোশন নিয়ে আবার ঢাকা এসে পূর্বের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
পরবর্তীতে পড়াশোনা এবং চাকরির সুবাদে তিনি গ্রাম থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু মনের গভীরে গ্রামের স্মৃতিকে লালন করেন। তাই জীবনের বিভিন্ন গল্পে তিনি শহরের পাশাপাশি গ্রামকে টেনে আনেন। এত সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্যে অশালীন ভাষা ব্যবহারে তার প্রাণ কাঁদে। তাই তিনি তার প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতা কখনো কবিতায় কখনো গল্পে প্রকাশ করেন শ্রুতিমধুর মার্জিত ভাষায়।
লেখকের কথা
আমার বন্ধুরা অনেক দিন থেকে বলছিল তোমার লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করো। আমি শুনিনি। সাহিত্যের বই প্রকাশ করার মতো মানসিকতা আমার কোনদিনই ছিলো না। আমি সাধারণত ট্রাফিক জ্যামে গাড়িতে বসে মোবাইলে লিখি, মোবাইলেই রেখে দিই। পরে নিজের পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। মনে হয় না এগুলো আমার লেখা। মাঝে মধ্যে ফেসবুকে
শেয়ার করি। অনেকেই আগ্রহ ভরে মত প্রকাশ করে। আমার ভালো লাগে। আমার সাহিত্য চর্চা এইটুকুই।
এভাবে ভালোই চলছিল। একদিন হঠাৎ পুরানো একটি লেখার কথা খুব মনে পড়ল। মোবাইলে খুঁজে পেলাম না। মনটা খারাপ হয়ে গেল। মানুষ তার লেখা এত ভালোবাসে এই প্রথম টের পেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম বই আকারে লেখা সংরক্ষণ করব।
গ্রাম থেকে শহরের সব স্তরের মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ হয়েছে আমার সমানভাবে। তাই আশেপাশের মানুষের সুখ-দুঃখের রকমফের দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। মানুষ কত অল্পতে খুশি হয় আর কত সামান্য আঘাতে মুষড়ে পড়ে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।
বাংলা সাহিত্যের বিশালতা অনেক। এখানে অশ্লীলতার স্থান নেই, থাকা উচিতও না। আমি আমার লেখা যথা সম্ভব পরিশীলিত রাখার চেষ্টা করেছি। কতটা পেরেছি জানি না। শুদ্ধ সাহিত্য চর্চায় আমার লেখা যদি বিন্দুমাত্র অবদান রাখতে পারে তাতেই আমার স্বার্থকতা।
-জাকির সরকার
১১.০৩.২০২৬
প্রথম ফ্লাপ
একজন কবি বা সাহিত্যিক হতে হলে সবচেয়ে বেশি যেটি দরকার তা হচ্ছে জীবনবোধ। জীবনবোধ ছাড়া আর যাই হোক অন্তত সাহিত্য রচনা করা সম্ভব নয়। ‘কাশ্মীরি মেয়ে’র লেখক জাকির সরকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কোনো চিকিৎসকের লেখক হয়ে ওঠা খুব সহজ নয়। সারা দিন অসুস্থ রোগীদের সেবাদান শেষে সারাদিনের ক্লান্তির মধ্যে সাহিত্য রচনা খুবই কঠিন। কিন্তু জাকির সরকার সে কাজটি সুন্দরভাবেই করতে পেরেছেন। তিনি তার লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশ করে পাঠকের সামনে নিবেদন করতে পেরেছেন। প্রথমেই বলেছিলাম, সাহিত্যিকদের জীবনবোধ থাকার খুব জরুরি। কোনো বিষয়েই অভিজ্ঞ নন, তবে জানেন না অন্তত সাহিত্যিকদের বেলায় এমনটা ঘটে না। জাকির সরকার বিদ্যালয়ের লম্বা ছুটিতে প্রায়ই বাবা-মায়ের সাথে গ্রামে বেড়াতে যেতেন। একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি গ্রামে অবস্থান করেন। গাঁয়ের ছেলে-মেয়েদের সাথে নদীতে সাঁতারকাটা, নৌকা চালানো, জমিতে লাঙল চালানো থেকে শুরু করে জমির আগাছা নিড়ানো, মই দেওয়া, ধান বুনা, মাছ ধরা সব কিছুতেই আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। এ ছাড়া পরিণত বয়সে নাগরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা না হয় বাদই দিলাম, কারণ একজনা চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধে ঘাটতি থাকার কথা নয়। লেখক তার অভিজ্ঞতালব্ধ জীবন থেকে এই বইটিতে কয়েকটি গল্প ও কবিতা প্রকাশ করেছেন অত্যন্ত সুনিপুণভাবে। তার প্রয়াস পাঠকমহলে সমাদৃত হবে আশা করি।
নাসির আহমেদ কাবুল
কবি ও কথাসাহিত্যিক
গীতিকার, বাংলাদেশ বেতার
একটুখানি পড়ুন:
ফারিহা কাশ্মীরি মেয়ে। কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশে এসেছে মেডিকেল পড়বে বলে। মেডিকেল পড়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন সবাই চায় সে ডাক্তার হোক। সে ঘরকুনো মেয়ে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যায় না। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ভারতে কোথাও ভর্তির সুযোগ হয়নি। তাই বাংলাদেশে এসেছে। ভিনদেশে সে একা এসে পড়বে—এটা তার কল্পনায়ও ছিল না। প্রথমে সে বেঁকে বসেছিল। অন্যদেশে সে কিছুতেই যাবে না। সবার পীড়াপীড়িতে শেষে বাধ্য হয়েছে।
বাবার হাত ধরে শীতের এক বিকেলে সে ঢাকায় পা রাখল। সেদিনই তার প্রথম বাড়ি ছেড়ে এত দূরে কোথাও আসা, প্রথম প্লেনে চড়া, নতুন দেশে আসা। এত এত নতুনত্ব তাকে রোমাঞ্চিত করার কথা কিন্তু ফারিহার মন খারাপ, ভীষণ খারাপ। আচ্ছা বাবাকে বললে কি ফিরিয়ে নিয়ে যাবে? সেই-বা কী করে সম্ভব। এত টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের সংসারে অভাব প্রকট না হলেও স্বচ্ছলতা নেই। কিছু জমি বিক্রি করে তার এ টাকার যোগান দেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীর হলো ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমের একটি অঞ্চল। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত কাশ্মীর শব্দটি ভৌগোলিকভাবে শুধু হিমালয় পর্বতমালা এবং পার পাঞ্জজল পর্বতমালার উপত্যকাকে নির্দেশ করা হতো। আজ কাশ্মীর বলতে বোঝায় একটি বিশাল অঞ্চল যা ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ, পাকিস্তানি-শাসিত গিলগিত-বালতিস্তান ও আজাদ কাশ্মীর প্রদেশ এবং চীন-শাসিত আকসাই চীন ও টেরান্স কারাকোরাম ট্রাক্ট অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত।
ফারিহাদের বাড়িটি জম্মু কাশ্মীরে। বাড়ির পাশে ছোট ছোট টিলা। যখন বরফ পড়ে তখন ছবির মতো দেখতে হয়। ছোটবেলায় সে তার ছোট ভাই এবং পাড়ার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বরফের বল বানিয়ে খেলত। বরফ আচ্ছাদিত কাশ্মীর তার পছন্দ। প্রকৃতি তাকে বরাবরই টানে। কতদিন সে জানালার পাশে পর্দা ধরে বসে বসে বরফ পড়া দেখেছে তার হিসেব নেই।
মেডিকেল কলেজটা রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে। প্রথম দর্শনে আকর্ষিত হওয়ার মতো কিছুই নেই। সহপাঠীদেরও সাদামাটাই মনে হলো। কাপড় চোপড়ে যতটা আধুনিক চালচলনে কথাবার্তায় ততটা না। সবাই ওর দিকে তাকায় কিন্তু সে তাকানোর মধ্যে একজন ভিনদেশীর প্রতি খুব একটা মমত্ববোধ প্রকাশ পায় না। ফারিহার মোটেও ভালো লাগে না।
শিক্ষকদেরকে ওর আরও বেশি বিরক্তিকর মনে হয়। পড়ানোর চাইতে ভাবসাব বেশি। এনাটমির শিক্ষককে মনে হয় ফেল করিয়ে মজা পায়। পড়ানোর সময় প্রায়ই সবাই নিয়মিত বাংলা বলে। ইংরেজি বলে বাংলা একসেন্টে। ভুলে ভরা। ওদের আগে ল্যাঙুয়েজ কোর্স করা দরকার। ফারিহার ভালো লাগে না। মা বাবা ও ছোট ভাইটির কথা মনে পরে। এনাটমির দুটো আইটেম হয়েছে। দুটোতেই সে খারাপ করেছে। তৃতীয় আইটেমের দিন সে মন খারাপ করে এক কোণায় একা বসে আছে। কেউ কেউ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘হাই’ বলে সম্বোধন করছে। কেউ আবার বলে ভালোভাবে পড়ো পাস করতে হবে। ফারিহা কিছুই উপভোগ করে না।
ফাহিম ওদের সাথে পড়ে। চুপচাপ থাকে। পড়াশুনায় বেশ ভালো। অহমিকা হতে পারে। ছেলেটাকে দেখলেই ওর গা জ্বলে। এত ভাব নেওয়ার কী আছে! মেডিকেল কোনো খারাপ ছাত্র পড়তে আসে না। সে এসে বলে, ফারিহা বুঝে বুঝে পড়ো। আইটেমই পাস করতে পারো না! কার্ড, প্রফেশনাল পাস করবে কী করে? ফারিহার গা জ্বলে উঠল। মনে হয় বলে, বাড়াবাড়িটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না? কিন্তু কিছুই বলে না। শুধু একটু মুচকি হেসে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এখানকার ছেলেমেয়েরা পরচর্চায় ওস্তাদ। ওদের আচরণে বুঝা যাবে না ওরা সহানুভূতি দেখাচ্ছে নাকি মজা নিচ্ছে। আইটেম শেষ হলো, পাসও হলো কিন্তু শিক্ষকের কটু কথা ফারিহার ভালো লাগল না।
রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষণ কাঁদল। মাকে খুব মনে পড়ল। মা পাশে থাকলে ওকে সান্ত্বনা দিত। শক্ত হতে বলত। কখন ঘুমিয়ে পড়ল জানে না। স্বপ্ন দেখে মা বিছানায় বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, ‘মা পড়ায় মন দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ ফারিহা ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলো। এককাপ কফি করল। বার্গার খেয়ে কফিতে চুমুক দিলো। বেশ ফুরফুরে লাগছে। মনে হচ্ছে এক দৌড়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারবে। কাশ্মীরে ওরা দৌড়ে টিলায় চড়ত-নামত। পড়ার টেবিলে বসে এনাটমির বইটা নিয়ে কিছুক্ষণ ছবিগুলো দেখল, তারপর মন দিয়ে পড়তে শুরু করল। পড়তে বেশ ভালো লাগছে।
Reviews (0)
Get specific details about this product from customers who own it.
This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.
Books & Magazine
50-60% price reduction
Gadget & Electronics
Home & Appliance
Accessorise
Cleaning Supplies
Fashion & Lifestyle
Toys Kids & Baby
Health & Beauty
Super Sale