25%
ছাড়
বিস্তারিত
মিস্টার কচু ভূত
আমি ইব্রাহিম। সৈয়দা আমেনা জোহরা ম্যাম-এর ‘বাদল দিনের গল্পগাথা’ বইটি যারা পড়েছেন, তারা আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে থাকবেন। যারা বইটি পড়েননি তাদের কাছে আমি একেবারেই নতুন। আমেনা ম্যাম-এর সাথে আমার এবং আমার পরিবারের খুবই দহরম-মহরম। যদিও ঘটনাটি পুরো কাল্পনিক কিন্তু আন্তরিকতাটি কাল্পনিক নয়।
আমি ‘বাদল দিনের গল্পগাথা’ বইটি পড়া শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আগের মতো বইয়ের পোকা হব এবং লেখালিখি শুরু করব। লিখব লিখব করতে করতে বেশ কয়েকদিন চলে গেল। আমার ছেলেবেলার প্রিয় ঘরটিতে গিয়ে অনেক চেষ্টা করলাম লেখার। কিন্তু মাথা তেমন সাড়া দিলো না। তারপর সাংসারিক কাজে টানা কয়েক সপ্তাহ ব্যস্ত থাকলাম।
সে যাই হোক, অনেকদিন পর আমার প্রিয় ঘরটিতে এলাম। ফজরের নামাজ পড়ে ভাবলাম পুবের জানালা খুলে দিয়ে সূর্যোদয় দেখব। অভ্যাসবশত জানালা খুললাম। তারপর লাইট অফ করে জানালার পাশে টেবিলের সাথের চেয়ারটিতে বসলাম। গতরাতে বই পড়ে ঘুমাতে অনেক দেরি করে ফেলেছিলাম। তাই হয়তো প্রচুর ঘুম পাচ্ছে। দুচোখের পাতা কি ভীষণ ভারি! তাকাতে পাচ্ছি না। নিরুপায় দুচোখ নিয়ে বিছানায় গেলাম। দুই ঘন্টা গভীর ঘুমিয়ে ফ্রেশ-ফ্রেশ ভাব নিয়ে জেগে উঠলাম।
ঘরের যে অংশের দেয়ালের সাথে আমার খাটটি আছে তার বিপরীত অংশে কোনো ফার্নিচার নেই। ফাঁকা দেয়াল। বাইরের প্রচুর আলোয় আলোকিত পুরো ঘর। হঠাৎ দেয়ালের ফাঁকা অংশে চোখ পড়তেই কেমন যেন অনুভূতি হলো। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, আমি কি সত্যি জেগে আছি, নাকি স্বপ্ন দেখছি। দুচোখ দুহাত দিয়ে ভালোমতো রগড়ে নিলাম। না, কোনো স্বপ্ন নয়! একেবারে সত্যি! ফাঁকা দেয়ালে একজন মানুষের ছায়া!
হ্যাংলা, পাতলা মানুষটির মাথায় উস্কোখুস্কো চুল। আমি খুবই মনোযোগ দিয়ে দেখলাম। হঠাৎ একটু ভয়-ভয় লাগল। তখনই মনে পড়ল এখন তো দিনের বেলা। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাকে অবাক করে দিয়ে ছায়াটি বলল, কেমন আছ হে ইব্রাহিম? ‘হে’ শব্দটি কেমন সেকেলে-সেকেলে, আমার তাই মনে হলো। ছায়াটি যেন আমার মনের কথা বুঝতে পারল। চট করে বলল—আমার প্রিয় ইব্রাহিম, তুমি কেমন আছ?
আমি ঢোক গিলতে গিলতে কোনমতে বললাম, কিন্তু আপনি কে? আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন? ছায়া কথা বলে, এমন ঘটনা কখনো শুনেছি কিনা তাও মনে পড়ছে না!
ছায়াটি খিকখিক করে হাসতে হাসতে বলল, রিলাক্স! রিলাক্স! ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি মিস্টার কচু। আমাকে দেখতে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, আমি মারা গেছি।
আমি নিজের অজান্তে আঁৎকে উঠে বললাম, সেকি! কখন মারা গেছেন? আর মারা যাওয়ার পর এখানে এলেন কী করে?
সে কি আজকের কথা! মারা তো গেছি ২০০০ সালে। মানে খুবই সহজ। আমি মরে ভূত হয়ে গেছি।
আমি আবারও জানতে চাইলাম, আপনি এখানে কেন?
মিস্টার কচু নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো বলল, আমি তো এখন এখানেই থাকি।
কতদিন ধরে আছেন আমার ঘরে?
মিস্টার কচু আবারও খিকখিক করে হেসে বলল, প্রায় তিন মাস তো হয়েই গেল!
আমি বেশ রেগে গিয়ে বললাম, আমার অনুমতি ছাড়া আমার ঘরে কেন থাকছেন?
মিস্টার কচু বেশ মোলায়েম আর কষ্ট পাওয়া কণ্ঠে বলল, সরি ইব্রাহিম! তোমার এই ঘরটি আমারও খুব পছন্দের আর নিরাপদও বটে।
আমি মনে মনে কচুর চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে বললাম, ভূতের আবার নিরাপত্তা! বিষয়টি তো ব্যাঙের সর্দির মতোই মনে হচ্ছে।
ওঃ ইব্রাহিম! আমার সব কথা শুনলেই তুমি বুঝতে পারবে। মানুষের চাইতে ভূতেরাই এখন বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার সব কথা শুনলে আমার ওপর তোমার রাগ থাকবে না। প্লিজ আমার উপর রাগ করো না! কী করে তোমার সামনে যেতাম আর কী করেই-বা তোমার অনুমতি নিতাম এখানে থাকার জন্য? আজকের মতো পরিবেশ তো এর আগে কখনোই আসেনি।
আমি চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড মিস্টার কচুর কথাটা শুনলাম। মনে হলো, সে সত্যি বলছে। তার প্রতি একটু মায়া অনুভব করলাম। বললাম, তোমার কচু নামটা কে দিয়েছিল? অদ্ভুত নাম!
কচু ভূত খুব দুঃখ করে বলল, মৃত্যুর পর আমার বউ আমাকে এই নামটি উপহার দিয়েছে। আমি মিস্টার কচু আর ও মিসেস কচু। ভূতদের মধ্যে সবচে উন্নত সম্প্রদায় হলো কচু। এই নাম নিয়ে আমরা পৃথিবীর কত শত দেশ ভ্রমণ করে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তারপর আমার জন্মভূমিতেই ফিরে এলাম। আর তোমার ঘরটিকেই বেছে নিলাম আপাতত থাকার জায়গা হিসেবে।
আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়ে বললাম, সেই ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছি রাক্ষস, খোক্ষস, ডাইনি, পেত্নী, শাকচুন্নী, পিশাচিনী, ড্রাকুলা বা রক্তচোষার কথা। এসব ছাড়াও আছে সাধারণ ভূত। কিন্তু কচু নামে যে ভূত থাকতে পারে, তা কল্পনায়ও আসেনি! তাও আবার ভূতদের মধ্যে সেরা সম্প্রদায়!
মিস্টার কচু আবারো খিকখিক করে হাসল এবং কী যেন বলতে চাইল। আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে তাকে বলার সুযোগ না দিয়ে বলেই ফেললাম, আপনার হাসিটা কিন্তু বেশি রকমের বিশ্রী। হাসি শুনে মনে হয়, আপনি একটা প্রতারক, শঠ বা সেই ছেলেবেলার শোনা যোচ্চর শিয়াল পণ্ডিত! আমার কথায় কচু ভূতের মন খারাপের ম-ও হলো না। সে এমন বলা শুরু করল যেন আমি অবুঝ ছাত্র আর সে একজন বিজ্ঞ শিক্ষক!
মিস্টার কচু ভূত বলল, তুমি তো ভূত হওনি, কী করে বুঝাই তোমাকে! উন্নত সম্প্রদায়ের সব ভূতদের এভাবেই হাসতে শুনেছি। এটাই তাদের উত্তম হাসি।
আমি বেশ ভদ্রভাবে বললাম, সে যাই বলেন, এখন আপনি আমার ঘরে আশ্রিত। তাছাড়া আপনার সেই কুলীন ভূতেরা তো আর এখানে নেই। তাই খুব দ্রুত হাসিটা সুন্দর করবেন। আপনার হাসি শুনে বমি বমি লাগে।
Reviews (0)
Get specific details about this product from customers who own it.
This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.
Books & Magazine
50-60% price reduction
Gadget & Electronics
Home & Appliance
Accessorise
Cleaning Supplies
Fashion & Lifestyle
Toys Kids & Baby
Health & Beauty
Super Sale