25%

ছাড়

ফিরে এসো নীলাঞ্জনা

৳300 ৳225

0.00/5 See Reviews

প্রোডাক্ট কোড : P1229

Brand : N/A

- +

Available Stock : 200

Inside Dhaka
Outside Dhaka

বিস্তারিত

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই অমিতকে ভালোবাসতো ঝিনুক। অমিত ঝিনুকের কোনো আবেদনেই সাড়া দেয়নি। ছোটোবেলায় এক কিশোরীকে ভালোবেসেছিল  সে। কিশোরী অনামিকা ছাড়া আর কোনো নারীই তার চোখে নারী মনে হয়নি কখনও। ঝিনুক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেড়ে আসার দশ বছরেও ভুলতে পারেনি অমিতকে। দীর্ঘ দশ বছরের হারিয়ে যাওয়া অমিতকে  এক সময় খুঁজে পায় সে। এবারও সে প্রত্যাখ্যাত হয়। ভেঙ্গে পড়ে একেবারেই। কাউকে কিছু না বলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অমিতের নামে লিখে দিয়ে অজানায় বিদেশে পাড়ি জমায় সে। এই সম্পত্তি ঝিনুক পেয়েছে তার পালক পিতার কাছ থেকে। পালক পিতার আর কোনো ওয়ারিশ না থাকায় সে ঝিনুককে পুরো বিষয়সম্পত্তি লিখে দিয়েছিল। পালক বাবা—মা লোকান্তরিত হয়েছেন অনেক আগে। ঝিনুকের বাড়ি বগুড়ায়। পারিবারিক কলহ ও লেখাপড়া করার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে সে যখন পালিয়ে ঢাকা গিয়েছিল, তখন ট্রেনে বসে একমাত্র সন্তানহারা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ঝিনুক একপর্যায়ে তার জীবনের সব কথা খুলে বলে ট্রেনে বসেই। সেই থেকেই  সে আশ্রিতা। ঝিনুকের আসল বাবা—মা মারা গেলে সে আর কখনোই বাড়ি ফিরে যায়নি। এসব কথা কেউ জানে না, অমিতও না। তবে বিদেশে যাওয়ার সময় ঝিনুক একটি দীর্ঘ চিঠিতে অমিতকে তার আসল পরিচয় জানিয়ে যায়। সে লিখেছিল যদি কোনোদিন অমিতের মন থেকে কিশোরী অনামিকার স্মৃতি মুছে যায়, সেদিন সে আবার ফিরে আসবে। এরপর প্রায় কুড়ি বছর কেটে গেছে। ঝিনুক কি ফিরে এসেছিল? তার স্মৃতি থেকে কিশোরী অনামিকার সব স্মৃতি কি মুছে গিয়েছিল? সে কি ঝিনুককে নিজের করে নিয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে ‘ফিরে এসো নীলাঞ্জনা’ উপন্যাসটিতে। 


একটুখানি পড়ুন

এক

সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। মেঘ—গর্জনের সঙ্গে ভারীবর্ষণ ও কালবোশেখির ঝড়োহাওয়া প্রকৃতিকে কেমন রহস্যময় করে তুলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি, থামারও কোনো লক্ষণ নেই। ঘড়িতে রাত নটা। রিকশা না পেয়ে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রাস্তায় নামে অমিত। শাহজাহানপুরের মেসে ফিরতে তার ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। শান্তিনগর থেকে শাহজাহানপুরের পুরো রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও—কোথাও হাঁটুঅবদি পানি। অমিতের পায়ে নতুন জুতো। কয়েকদিন আগে টিউশনির টাকা পেয়ে সাদা রংয়ের একজোড়া কেডস কিনেছে সে। খুব পছন্দ হয়েছে জুতোজোড়া। জুতো রাস্তার কাদাপানিতে যাতে ভিজে না যায় সে জন্য ফিতে দিয়ে বেঁধে গলায় ঝুলিয়ে নিয়েছে সে। একটি ইংরেজি মুভিতে এক তরুণকে গলায় জুতো ঝুলিয়ে পথ চলতে দেখেছিল সে। কানাডার এক তরুণ পরার জুতো গলায় ঝুলিয়ে স্নো—স্যু পায়ে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সময়টা ছিল শীতকাল। খুব তুষারপাত হচ্ছিল সেদিন। দৃশ্যটা অমিতকে অবাক করেছিল। আজ সেই তরুণের কথা মনে হওয়ায় আপন মনে হেসে ওঠে অমিত। মনে মনে ভাবে, প্রয়োজন শুধু আইন মানে না তা নয়, নতুন—নতুন বুদ্ধিরও জন্ম দেয়।

প্যান্ট যতটা উপরে উঠানো যায়, ততটা টেনে নিয়েছে হাঁটু পর্যন্ত। গায়ে টিশার্ট। অমিতের বড়ো—বড়ো চুল। তরুণ কবিরা যেমন রাখে। অমিত কবিতা লেখে না, তবে কবিদের মতো বেশভূষা পছন্দ তার। গদ্য মোটামুটি লিখতে পারে সে। অমিতের লেখা বেশ কয়েকটি ছোটোগল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন মিডিয়ায় অমিত মোটামুটি পরিচিত। গাঁটের টাকা খরচ করে তথাকথিত সাহিত্য সংগঠন থেকে সার্টিফিকেট কেনার পক্ষে নয় সে। এ জন্য আজ পর্যন্ত লেখালিখির কোনো সার্টিফিকেট নেই তার। অমিত ওসব নিয়ে ভাবে না কখনো। অমিত মনে করে, ভালো লিখতে পারাটাই আসল। অমিত মাঝে—মধ্যে যে কবিতা লেখার চেষ্টা করে না, তাও নয়। তবে কিছুতেই কুলিয়ে উঠতে পারে না। আধুনিক কবিতার কোথায় ছন্দ ঠিক ধরতে পারে না সে। এক কবিবন্ধু অমিতকে বলেছে, ছন্দ না থাকলে কবিতা হয় না। আধুনিক কবিতার ছন্দটা দৃশ্যমান নয়, কিন্তু ছন্দ আছে; সেটা কোথায় অমিত তার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে না পেরে নিজেকে নিজেই বলেছে, ‘কবিতা লেখা তোমার কাজ নয় অমিত!’

অমিতের বেশ কয়েকজন বন্ধু ঢাকা শহরে চাকরি করে, কেউ—কেউ ব্যবসা করে। এদের মধ্যে কয়েকজন বিয়ে করে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে দৌড়ে অমিত অনেকটা পিছিয়ে আছে। অমিত সবকিছুতেই পিছিয়ে থাকে। ঠিক কাজটি ঠিক সময়ে করতে পারে না সে কোনোদিনই। এ জন্য তার কোনো দুঃখবোধ নেই। অমিত মনে করে, মানুষকে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয়। বেঁচে থাকা বলতে মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাকেই বোঝে অমিত। জীবনে প্রতিকূলতাকে জয় করার জন্য যুদ্ধ না থাকলে সে বেঁচে থাকা পানসে। কোনো মানে নেই সে জীবনের। 

রাস্তা অন্ধকার। স্ট্রিট লাইটগুলো নিভে গেছে একটু আগে। ঘন—ঘন বজ্রপাত হওয়ায় বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। শান্তিনগর থেকে শাহজাহানপুরÑএই পথটা অমিতের প্রতিদিনের চেনা। তবুও খুব সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে তাকে। অন্ধকারে একা চলতে ছিনতাইকারী ও পকেটমারের ভয় থাকে। পকেটমার নিয়ে খুব একটা ভাবে না অমিত। তার পকেটে বাসভাড়া ছাড়া বাড়তি টাকা কখনোই থাকে না। তবে অমিতের দু—দুটো ঘড়ি বাসে চুরি হয়েছে। খুব কষ্ট করে টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে ঘড়ি কিনেছিল সে। জগতে কোনো কিছুর প্রতি অমিতের মোহ নেই, ঘড়ি ছাড়া। দু—দুটো ঘড়ি হারিয়ে ঘড়ি কেনার আর ইচ্ছে হয়নি তার, সামর্থও নেই অমিতের। একটি টিসর্ট ঘড়ি কেনার খুব ইচ্ছে আছে অমিতের। ছোটবেলায় বাবাকে টিসর্ট ঘড়ি পরতে দেখেছে সে। অমিতের মেজো মামা ঘড়িটি কিনে দিয়েছিলেন বাবাকে। বাবা ঘড়ি খুব একটা পরতেন না। ঘড়ি পরে অফিসেও যেতেন না। অফিসে ওয়াল ঘড়ি দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন বাবা।

অমিতের বাবা একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন। তখনকার দিনে এখনকার মতো ব্যাংকে অতটা ভিড় হতো না। বাবা বাসায় ঘড়িটা রেখে অফিসে গেলে অমিত ঘড়িটি নিয়ে ভাবত সেও একদিন এমনই একটি ঘড়ি কিনবে। অমিত যেবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বাবা তাকে একটি ওমেগা ঘড়ি কিনে দিয়েছিলেন। ঘড়িটি সে ফিরিয়ে দিয়েছিল সময় ঠিক থাকে না, ফাস্টর্ হয় বলে। অমিত বলেনি টিসর্ট ঘড়ি তার পছন্দ। অত টাকার ঘড় কিনে দিতে না পেরে পাছে বাবা কষ্ট পান, সেই ভয়ে।

বাবা তার ঘড়িটা নিজের করে রাখতে পারেননি। বড়ো মেয়েজামাই একদিন ঘড়িটি চেয়ে নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। বাবার হাতের ঘড়িটি না থাকায় অমিত খুব কষ্ট পেয়েছিল। বাবাও যে কষ্ট পাননি তা নয়। তবে প্রকাশ করেননি কখনো। বাবারা কখনো দুঃখ—কষ্ট প্রকাশ করতে পারেন না বা করেন না, সন্তান কষ্ট পাবে বলে বাবারা নীলকণ্ঠ হয়! সংসারে সবার দুঃখ—কষ্টকে নিজের করে নিয়েই যেন বাবাদের সুখ। বাবারা নিজের আগে অন্যের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন বেশি। সে কথা কেউ মনে রাখে না! অমিত পথ চলতে—চলতে ভাবে সেও কি বাবার মতো হতে পারবে। বাবার কোনোকিছুতে রাগ নেই, অভিমান নেই, কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেইÑএমনটা কি হবে সেও? বাবার এই গুণগুলো কি রপ্ত করতে পারবে সে? অমিতের সন্দেহ হয়, সে পারবে না। বাবার মতো অত ধৈর্য তার নেই।  

এসব ভাবনার মধ্যে একটি প্রাইভেট কার এসে অমিতের গাঘেঁষে দাঁড়ায়। অমিত থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ড্রাইভিং সিট থেকে ড্রাইভার জানালা খুলে জানতে চায় অমিত কোথায় যাবে। অমিত কোনো উত্তর দেয় না। গাড়ির ভিতর লাইটের আলোয় অমিত দেখতে পায় বেশ সুন্দরী এক নারী পিছনের সিটে বসে আছে। তাকে দেখে খুব চেনা—চেনা লাগে অমিতের। মনে হয় কোথায় যেন দেখেছে তাকে। কিন্তু কোথায়Ñমনে করতে পারে না সে। গাড়িটি একটু সময় অপেক্ষা করে আবার চলতে শুরু করে। অমিতও আবার নিজের পথ ধরে এগিয়ে যায়, তবে এসব মাথা থেকে তাড়াতে পারে না সে। কোথায় দেখা হয়েছে মহিলার সঙ্গে, সেই হদিস খুঁজতে—খঁুজতে হঠাৎ কিছু একটার সঙ্গে অমিতের ধাক্কা লাগে। রাস্তায় পড়ে যায় সে। পুরো শরীর ময়লা পানিতে ভিজে যায়। সেদিকে তার খেয়াল নেই। মনে মনে ভাবে, যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে শরীরের ময়লা পানি ধুয়ে—মুছে সাফ হয়ে যাবে। অমিত অলওয়েজ পজেটিভ চিন্তা করতে অভ্যস্ত। সব খারাপের মধ্যে একটি ভালো দিক থাকে, অমিত সেটা খুঁজে পেতে চেষ্টা করে।

বেকার যুবক অমিত। এই শহরের আরও হাজার—হাজার শিক্ষিত বেকারের মধ্যে সেও একজন। মাস্টার্সের রেজাল্টের পর দশ বছরেও অমিত কোনো চাকরিতেই স্থায়ী হতে পারেনি। অনিশ্চিত প্রাইভেট চাকরি ও টিউশনির আয় দিয়ে চলতে হয় তাকে। কতদিন আর টিউশনি করে চলবে জানে না সে। মাস শেষে মেসের ভাড়া ও খাওয়ার টাকা ছাড়াও ছোটবোনের লেখাপড়ার খরচ পাঠাতে হয় বাড়িতে। সব মিলিয়ে হাজার দশেক টাকা দরকার তার। আপাতত দুটি টিউশনি থেকে সাড়ে বারো হাজার টাকার মতো আসে। এতে কোনোরকম চলে গেলেও ঝুঁকি তো থাকেই। যে কোনো সময় টিউশনি চলে যেতে পারে। অমিত ভাবে যে করেই হোক শিগগিরই তাকে একটি স্থায়ী চাকরি যোগার করে নিতে হবে। আপাতত প্রাইভেট চাকরিই ভরসা, সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে তার। 



Reviews (0)

Get specific details about this product from customers who own it.

This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.