25%

ছাড়

দুর্ধর্ষ দুই গোয়েন্দা

৳300 ৳225

5.00/5 See Reviews

প্রোডাক্ট কোড : P1133

Brand : N/A

- +

Available Stock : 10

Inside Dhaka
Outside Dhaka

বিস্তারিত

বাংলাভাষায় ছোটদের জন্য লিখছেন এমন লেখক প্রচুর আছেন। তবে কিশোরদের জন্য লিখছেন এমন লেখক খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। ছোটদের মন—মানসিকতা বুঝতে পারেন খুব কম লেখকই। এমন কি বাবা—মাও তার কিশোর ছেলেটি বা মেয়েটিকে বুঝতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। এ কারণেই কিশোরদের গল্প ও কবিতার লেখক কম বলা যায়। কিশোররা তাদের মনের দুরন্তপনা, অজানাকে জানা এবং যে কোনো নতুন কিছুকেই অত্যন্ত বিস্ময়ের দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পছন্দ করে। তারা সায়েন্স ফিকশন, ভূতের গল্প, রহস্য গল্প  তাদের প্রিয় বিষয়। ‘দুর্ধর্ষ দুই গোয়েন্দা’ বইটিতে লেখক হাসান জাহিদ চমক যেন কিশোর মনের বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন, না হলে এমন গল্প বলা সত্যিই কঠিন বটে। এই বইটিতে একদিকে গোয়েন্দা গল্প যেমন আছে, তেমনই আছে চিররহস্যময় ভূতের বিষয়টি। আছে সর্বোপরি রহস্য ভেদ করার কঠিন দুঃসাহস ও অভিযান। এই গ্রন্থের প্রতিটি গল্প কিশোরদের উপযোগী করে লিখিত এক অনবদ্য সংকলন হলেও এ বইটি  কিশোর এবং সব বয়সী পাঠক পড়ে আনন্দ পাবেন বলে আশা করি।


একটুখানি পড়ুন

দুর্ধর্ষ দুই গোয়েন্দা

বিকেলের নরম রোদ, গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপ। চমক ও অর্ক রিকশাভ্যানে বসে বিকেলের এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছিল। অর্ক গুন গুন করে গান গাইছিল। মাঝে মাঝে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছিল চমক। ওরা দুজন খুবই কাছের বন্ধু। কাছের বন্ধু বললে ঠিক বলা হয় না; মানিকজোড় বললে কিছুটা চলে। এরা ছায়ার মতো একসাথে থাকে সবসময়। এবার ওরা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এখন প্রচুর সময় ওদের হাতে। সে কারণেই একসাথে বেড়িয়েছে গ্রাম দেখতে। একটানা বহু বছর শহরে থেকে সব কিছু কেমন যেন একগুঁয়েমি হয়ে গেছে।

ওরা যে বাড়িটির উদ্দেশে যাত্রা করেছে, সেটা চমকের দাদা বাড়ি। সেই ছোটবেলায় চমক একবারই দাদা বাড়িতে এসেছিল। তখনকার অনেক কিছুই মনে নেই আজ। স্টেশন থেকে তিন কিলোমিটার দূরেই চমকের দাদাবাড়ি। এক সময় এই বাড়িটি একজন হিন্দু জমিদারের বাড়ি ছিল। চমকের দাদার দাদা এটি কিনেছিলেন বহু বছর আগে। তারপর থেকেই ওদের বসবাস এখানে। তবে এখন এ বাড়িটি একজন কেয়ারটেকার আর কয়েকজন চাকর—বাকর মিলে দেখাশুনা করে। ওর বাবা—চাচারা সবাই ঢাকাতেই থাকেন। ওদের অনেক বড়ো ব্যাবসা ঢাকাতে। তাই গ্রামের দিকে খুব একটা আসা হয় না।

দেখতে দেখতে ওরা গন্তব্যে পৌঁছে গেল। গেটে কাউকে না পেয়ে চমক ডেকে উঠল:

হাসমত চাচা, কোথায় আপনি?

কে ওখানে?

গেট খুলে ৫৫ বছরের এক লোক বেরিয়ে এসে দেখল চমকদেরকে। প্রথমে কিছুক্ষণ চিনতে না পেরে তাকিয়ে থাকল। তারপর চিনতে পেরে বলল, আরে চমক যে! কেমন আছ? কোন খবর না দিয়েই চলে এলে?

একটু সারপ্রাইজ দিলাম। কেমন আছেন চাচা? পরিচয় করিয়ে দিই। এটা আমার বন্ধু অর্ক। অর্ক, ইনি হলেন হাসমত চাচা। উনিই এই বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রায় ৩০ বছর যাবত এখানেই আছেন। আমার দাদার খুব কাছের মানুষ।

তোমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি তো আসতে?

না, অসুবিধা হবে কেন? আমাদের তো বরং ভালোই লেগেছে।

খুব ভালো। তোমার বাবা—মা আর সবাই ভালো আছেন তো?

হঁ্যা, ভালো আছেন। আপনার ছেলে কী যেন নামÑপিন্টু। পিন্টু ভাই কেমন আছেন?

ওর কথা আর বল না...

বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল হাসমত।

কেন? কি হয়েছে ওর?

একেবারে বখে গেছে। খারাপ বন্ধুবান্ধব জুটিয়েছে। নেশা—ভাং করে কিনা বলতে পারব না। পড়ালেখা করেনি। ব্যবসার জন্যে টাকা নিয়েছে কয়েকবার। কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। আরও টাকা চায়। আমার আর কিছু নেই যে ওকে দিব।

হুম, তাহলে তো খুবই সমস্যা।

বাদ দাও ওর কথা। তোমরা দোতলার ঐ ঘরটাতেই থাকবে। ওটা পরিষ্কারই আছে।

ঠিক আছে চাচা। ঐ ঘরটাতে থাকতে আমাদের ভালোই লাগবে। দোতলা থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়।

যাও তোমরা ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি খাবারের ব্যবস্থা করছি।


ওরা দুজন উপরের ঘরে গিয়ে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পরল। অর্ক চমককে জিজ্ঞেস করল, তোদের এই বাড়িতে কিছু দেখবার আছে নিশ্চই?

চমক বলল, একটি যাদুঘরের মত আছে, দেখতে পারিস। ওখানে অনেক পুরনো আমলের কিছু অস্ত্র, কয়েন, বাঘের চামরা, হরিণের চামরা দেখতে পাবি। আর একটি বিশেষ মূর্তি আছে। ওটা যে হিন্দু জমিদারের কাছে থেকে আমার দাদার দাদা কিনেছিলেন তার পূজার ঘর ছিল। তার কোনো অংশীদার ছিল না বলে মৃত্যুর আগে বাড়ি ঘর জমিজমা বিক্রি করে দিয়ে যান। এই মূর্তিটি আর নেননি। মূর্তিটি ঐ ঘরেই তালা বন্ধ অবস্থায় আছে। এক সময় ঐ ঘরটা পুরনো জিনিসের স্টোর রুম হয়ে উঠে। এভাবে বহু বছর পরে থাকার পর আমার দাদা সেটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে আমাদের পারিবারিক যাদুঘরের মত তৈরি করেন।

এখনো আছে সব কিছু?

হঁ্যা অবশ্যই আছে। থাকবে না কেন? আমার দাদা মারা গেছেন দশ বছর আগে। উনি সব কিছু গুছিয়ে রেখেছেন। এই দশ বছরে কি হয়েছে বলতে পারব না। তবে মনে হয় ঠিকই আছে। কারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে প্রতি মাসে বাবা টাকা পাঠান। আর এ বাড়ির সবাই খুব বিশ্বস্ত।

আমি ঐ যাদুঘরটি দেখব।

অবশ্যই দেখবি। আমার নিজেরও দেখতে ইচ্ছে করছে।

উঠে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আসল দুজনে। টেবিলে গিয়ে দেখে চা, নাস্তা সব রেডি। বাবুর্চি জামালও অনেক পুরনো লোক। এখানে প্রায় পঁচিশ বছর যাবত আছে। জামাল জিজ্ঞেস করল:

তুমরা ভালা আছ?

হঁ্যা, ভালো। আপনি?

আমাগোর থাকা, আছি কোন রহমে। বাদ দেও আমাগোর কতা। কি খাইবা রাইতে?

কি খাবি? চমক অর্ককে জিজ্ঞেস করল।

শিং মাছ, আলু ভাজি, আর দেশি মুসুরির ডাল। ঢাকাতে তো সব ইন্ডিয়ান ডাল। এখানে নিশ্চয়ই দেশী পাওয়া যাবে।

অবশ্যই দেশী মুসুরির ডাইল পাইবা। আর একেবারে খাঁটি ঘি আছে দিয়া দিমু, দেখবা খাইতে মজা কারে কয়!

ওঃ! তাহলে তো চমৎকার হবে। অর্ক খুশিতে বলল।

আরে থাক না কয়ডা দিন, দেখবা স্বাস্থ্য কত ভালা হইয়া যায়। তাইলে এহন তোমরা খাও, আমি রাইতের খাওনের ব্যবস্থা করি।

আচ্ছা ঠিক আছে। এখন কি করা যায় বলত? চমক অর্ককে বলল।

চল, যাদুঘরটা দেখি।

এখন তো প্রায় অন্ধকার হয়ে আসছে। আর ইলেক্ট্রিসিটি কখন আসে তার নেই ঠিক। মাঝে মাঝে দুতিন দিনও আসে না।

তাহলে তাড়াতাড়ি চল। আজ একটু দেখি। কাল ভালো করে দেখব।

ঠিক আছে। চল।




ডেলিভারি পদ্ধতি-
🏙️ ঢাকার মধ্যেঃ হোম ডেলিভারি।পণ্য হাতে পাবার পর দাম পরিশোধ করুন। বিকাশেও মূল্য  পরিশোধ করা যায়।
🏡 ঢাকার বাইরেঃ দেশের সকল জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পাচ্ছেন হোম ডেলিভারি সুবিধা।
পণ্য হাতে পাবার পর দাম পরিশোধ করুন।
 
💰ডেলিভারী চার্জ-
ঢাকার মধ্যেঃ 80/- টাকা
ঢাকার বাইরেঃ 130/- টাকা
 
🚚 রিটার্ন পলিসি-
প্রোডাক্টটি অবশ্যই ডেলিভারি ম্যানের সামনে দেখে-বুঝে নিবেন। প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে কিংবা কোন সমস্যা থাকলে আমাদের হেল্পলাইনে কল করে আপনার সমস্যার কথা জানাবেন। অন্যথায় প্রোডাক্ট আনবক্সিং করার সময় অবশ্যই ভিডিও করে সেটা আমাদের পাঠাবেন। সমস্যা থাকলে আমরা সেটা এক্সচেঞ্জ করে দিবো তবে আপনাকে পুনরায় ডেলিভারি চার্জ দিয়ে প্রোডাক্টটি রিসিভ করতে হবে।

Reviews (1)

Get specific details about this product from customers who own it.

Farjana Yasmin

15-10-2025

অসাধারণ একটি বই ,