50%

ছাড়

নির্বাচিত ভূতের গল্প

৳400 ৳200

0.00/5 See Reviews

প্রোডাক্ট কোড : P1408

Brand : N/A

- +

Available Stock : 200

Inside Dhaka
Outside Dhaka

বিস্তারিত

সূচি


আমার ভূত দেখা এইচ জি ওয়েলস ...   ৯

অভিশপ্ত বাড়ি এ ই ডি স্মিথ ... ১৪

রহস্যময় প্রতিচ্ছবি জর্জ বার্নার্ড শ’ ... ২১

ভালগার্সিসের রাত ব্রামস্টোকার ... ২৭

কঙ্কালের সঙ্গে একরাত মপাঁসা ... ৩৬

অতৃপ্ত আত্মা অ্যাডগার এলান পো ... ৪০

টম সাহেবের বাড়ি ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় ... ৫০

ছবির ভূত মানিক বন্দোপাধ্যায় ... ৫৪

ঘাটবাবু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ... ৬৩

অনাথ বাবুর ভয় সত্যজিৎ রায় ... ৬৭

দিনে দুপুরে বুদ্ধদেব বসু ...   ৭৯

জোছনায় ঘোড়ার ছবি অতীন সরকার ... ৮৫

ভূতেরা বেঈমান নয় শক্তিপদ রাজগুরু ... ৯১

গঙ্গাধরের বিপদ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ... ৯৮

সাদা ঘোড়া এবং... নীতীশ বসু ... ১০৪

ভূত-ভূত ভূতং নাসির আহমেদ কাবুল ... ১০৯

এ তবে কে? উপাসনা পুরকায়স্থ ... ১১৬

দুষ্টু অনিন্দিতা চক্রবর্তী ... ১২০


একটুখানি পড়ে দেখুন:

আমার ভূত দেখা/এইচ জি ওয়েলস


ঠাৎ বলল ক্লেটন, গত রাতটা আমি ক্লাবে কাটিয়েছি। আর আমি সে সময় একটি ভূতকে আটক করেছি। বন্ধুরা সকলে কৌতূহলী হয়ে ওঠে ভূতের কথা শুনে। সকলে ঘিরে ধরে ক্লেটনকে। অনুরোধ জানায় ব্যাপারটা খুলে বলতে।

কেউ-কেউ পরিহাস করে ব্যাপারটা নিয়ে। সব ব্যাপারটাই যে ডাহা মিথ্যে, সে কথা বলতেও কেউ ছাড়েনি।

কিন্তু তাদের কথা গায়ে মাখে না ক্লেটন। সে স্পষ্টভাবে বলে, আমি ভূত-টুত বিশ্বাস করতাম না, আপনারা সকলেই বেশ ভালো করেই জানেন। কাজেই ব্যাপারটা বেশ ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্লাবের সদস্যরা ক্লেটনকে অনুরোধ করে বলে, অযথা ভূমিকা না বাড়িয়ে আসল ব্যাপারটা খুলে বলুন।

ক্লেটন নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, নিশ্চয়ই বলব। ভূতের সঙ্গে যখন আমার দেখা হলো তখন বেচারার খুব শোচনীয় অবস্থা। আমার জানা ছিল না যে, ভূতও কাঁদতে পারে!

একটা চুরুট ধরিয়ে বেশ আয়েশ করে বসে ক্লেটন। তাকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল প্রথম থেকেই। চুরুটে সে বড়ো-বড়ো কয়েকটা টান দেয় এবং ধীরে-ধীরে বলে, আমরা সাধারণত যেসব ভূতের কথা বলি, তারা একই জায়গায় ঘুর-ঘুর করে সব সময়। ভয় দেখায় লোকদের। আমার দেখা ভূতটা কিন্তু সে ধরনের নয়। সে যেনো অন্য রকমের। কথা বলতে-বলতে ক্লেটন একবার চারদিকে তাকায়।

আবার বলতে শুরু করে ক্লেটন, ‘ভূতটাকে আমি প্রথম দেখতে পাই। কেননা, সে আমার দিকে পিছন করে দাঁড়িয়েছিল। ওর দেহটা কী রকম যেন স্বচ্ছ ও সাদাটে। তাছাড়া ওর দেহটা ভেদ করে দূরের জানালার আলো আমি ভালো করে দেখতে পাই। আমার সুবিধে মনে হয় না ওর হাবভাব। মনে হয়, কিছু একটা করার তার ইচ্ছে। কিন্তু কী যে করবে, তা ভেবে পাচ্ছে না। কাঠের দেয়ালে এক হাত দিয়ে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। আর এক হাত মুখের কাছে নিয়ে নাড়াচ্ছে।

ক্লেটন একটু থামলে স্যান্ডারসন নামে এক সদস্য বলে, কী রকম ছিল ভূতের চেহারা?

ক্লেটন বলে, বেশ রোগাটে। লম্বা, বেঁটে। মাথায় কদমছাট চুল। স্বাভাবিক নয় কান দুটি। দেহের তুলনায় কাঁধ খুবই সরু। গায়ে ছিল কলার দেয়া রেডিমেড জ্যাকেট। পরনে ছিল হাঁটুছেঁড়া বেশ ঢোলা প্যান্ট।

প্রথমে নিঃশব্দে আমি দোতলায় উঠি। আমার পায়ে হালকা চটি ছিল। আমার হাতে কোনো আলো ছিল না। সিঁড়িতে ওঠার সঙ্গে-সঙ্গে আমি দেখতে পাই ওকে। দাঁড়িয়ে পড়ি। খুব ভালো করে ভূতটাকে লক্ষ্য করি। সে সময় আমি অবশ্য বিন্দুমাত্র ভয় পাইনি। বরঞ্চ আমার কৌতূহল বেড়ে যায়। মনে-মনে ভাবি, বিগত পঁচিশ বছর ধরে ভূতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এসেছি। বয়সকালে একে দেখার আমার সৌভাগ্য হলো!

আমাকে দেখতে পায় এক সময় ভূতটা। সঙ্গে-সঙ্গে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। এবার ভূতটাকে আরও ভালোভাবে দেখার সুযোগ পাই। ভূতটাকে আমার অপরিণত বয়স্ক মনে হয়। নাক, মুখ ইত্যাদি বেশ সুন্দর নয়। সবে ওঠা খোঁচা-খোঁচা গোঁফ ঠোঁটের ওপরে।

ভূতটাও বেশ ধৈর্যসহকারে আমাকে দেখে। ভূতের করণীয় কর্তব্য ব্যাপারে সজাগ হয়। সে বেশ সোজা হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম অনুসারে মাথাটা সামনের দিকে এগোয়। লম্বা-লম্বা হাত দুটো দেহের দুপাশে ঝুলিয়ে রাখে। মুখটা খুলে মৃদু শব্দ করে। পায়ে-পায়ে আমার দিকে এগুতে থাকে।

আমি কিন্তু বিন্দুমাত্র ভয় পাইনি। আমি ভূতটাকে বেশ জোরে ধমক দিলাম। বললাম, বোকার মতো চিৎকার করো না। এটা তোমার জায়গা নয়। এখানে এসে শুধু-শুধু ঝামেলা করছ কেন?

আমার ধমকে ভূতটা কেমন যেনো জড়োসড়ো হলো। আগের মতো নাকি সুরে ওঁ-ওঁ বলে মৃদু চিৎকার করে ওঠে। সঙ্গে-সঙ্গে আমি ওকে প্রশ্ন করি—তুমি যে এখানে এসেছ, তুমি এই ক্লাবের মেম্বার? মেম্বার ছাড়া এই ক্লাবে প্রবেশ করা অপরাধ।

এ ছাড়া আমি যে ভূতটাকে কেয়ার করি না, তা বোঝানোর জন্য ওর ছায়াসর্বস্ব দেহের একটা কোণের ভেতর দিয়ে দোতলার বারান্দায় যাই। মোমবাতি জ্বালাবার চেষ্টা করি।

তবে ভূতটার ওপর থেকে আমি নজর সরাই না। দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করি, আমার প্রশ্নের জবাব কিন্তু আমি পাইনি।

ভূতটা আমার প্রশ্নে হোক, কিংবা বেপরোয়া ভাব দেখে বারান্দায় চলাফেরার যথেষ্ট পথ রেখে একপাশে দাঁড়ায়। বিষণ্নভাবে বলে, ‘না, আমি আপনাদের ক্লাবের মেম্বর নই। তবে আমি হলাম একজন ভূত।

আসলে ভূতটা আমাকে ভয় পাওয়াতে চাইছে।



Reviews (0)

Get specific details about this product from customers who own it.

This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.