40%
ছাড়
বিস্তারিত
আমরা ইংরেজি শব্দের বানান মোটামুটি নির্ভুলই লিখতে চেষ্টা করি। মনে মনে একটু সংকোচ উঁকি দেয় বটে—কী জানি কোথায় ভুল হয়ে যায়! ভুল হলে কী বলবে লোকে! তাই দুর্বলতা কাটাতে ডিকশনারি ঘাঁটি। শতভাগ নির্ভুল হোক না-হোক ইংরেজি লিখতে মোটামুটি চেষ্টা তো থাকে! এই ইচ্ছাটুকুকে সম্মান না-জানিয়ে পারা যায় না! এবার একটু ভাবুন—বাংলা লিখতে, পড়তে বা বলতে একেবারেই কি আমরা বেখেয়াল নই? শিক্ষক থেকে ছাত্র, অফিসের বড়ো সাহেব, কেরানি এবং এমন কি আমরা যারা সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছি, তারা বাংলাভাষার নামে কী লিখছি, কেন লিখছি—একবার উপলব্ধি করা দরকার মনে হয় না কি? বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, বুকের রক্ত দিয়ে এই ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষরা। নিজের ভাষার জন্য তাদের অমিত ত্যাগ আমরা কি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি? মনে হয় আমরা এ ক্ষেত্রে একেবারেই দায়িত্বহীন। লেখক ও কবি সঞ্জয় মুখার্জ্জী তার ব্যতিক্রম। বাংলাভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, ঠিক জায়গায় ঠিক শব্দটির প্রয়োগ এবং সর্বোপরি বাংলাভাষাবাসীদের শুদ্ধরূপে বানানটি লিখতে তিনি নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই একাগ্রতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন দেখতে পাই পর পর মোট পাঁচটি বই প্রকাশ। এগুলো হচ্ছে ‘ছন্দে লিখি বানান শিখি’, ‘দুরন্ত সংলাপ-১’, ‘দুরন্ত সংলাপ-২’, ‘দুরন্ত সংলাপ-৩’ এবং এ বছর অমর একুশে বইমেলায় জলছবি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘চিরকুটি সংলাপ’; এই বইগুলোতে বালাভাষাকে শুদ্ধরূপে বলতে তার নিজস্ব পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আশার কথা হচ্ছে, পাঠক তার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। এবারে প্রকাশিত ‘চিরকুটি সংলাপ’ বইটিও পাঠকের ভালো লাগবে আশা করতেই পারি।
—নাসির আহমেদ কাবুল
কবি ও কথাসাহিত্যিক
প্রকাশক, জলছবি প্রকাশন
একটুখানি পড়ে দেখুন
\ ১\
অদ্ভূত, অদ্ভুত
º কী হচ্ছে কী এসব? অদ্ভূত সব কর্মকাণ্ড!
: হঠাৎ এমন করছ কেন? কী হয়েছে?
º অদ্ভূত তো! তুমিও বলছ, কী হয়েছে? কী হয়নি!
: আহা! ধৈর্য ধরো, শান্ত হও। তারপর বলো, কী হয়েছে?
º কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই! অদ্ভূত অনুভূতি মানুষের! একটুতেই ভেঙে পড়ে, আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, অদ্ভূত নয় তো কী?
: শোনো, তুমি যেভাবে বলছ, ওটি অমন নয়।
º অদ্ভূত তো! তোমার কাছ থেকে এমন উত্তর আশা করিনি!
: ওহো! অহেতুক আমাকে ভুল বুঝছ। আমি যা বলেছি, তুমি সেটির ভুল ব্যাখ্য করছ।
º আমি ভুল ব্যাখ্যা করছি? হা কপাল! এ জগৎ সত্যিই অদ্ভূত! কী করব এখন!
: আপাতত, যতবার ‘অদ্ভূত’ বানান ঊ-কারে লিখে অনুভূতি প্রকাশ করেছ; সেটি দয়া করে উ-কার দিয়ে ‘অদ্ভুত’ লিখে বানানটি শুদ্ধ করো।
º কী বলছ এসব? তাহলে কী ‘উদ্ভূত’ ‘অনুভূত’ ‘পরাভূত’ বানানগুলো ভুল?
: না ওগুলো সব ঠিক আছে। মনে রাখবে একমাত্র ‘অদ্ভুত’ ছাড়া সকল ‘ভূত’ ঊ-কারে লিখতে হয়। পরিষ্কার হয়েছে কি?
º হায়, হায়! দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তুমি একটা যাচ্ছেতাই! এই কথাটা আগে বললে কী হতো!
: কী হতো, শুনি?
º কিছুই না। শুধরে নিতাম আগেই। তুমি সত্যিই একটা অদ্ভুত। হিহি।
\ ২\
অন্তর্ভূক্ত, অন্তর্ভুক্ত
º শুনছ? তোমার সেলফোন অফ কেন?
: আরে, কাজের খালা দু-দুটো সেলফোন না বলে নিয়ে গেছে, এখন স্বীকার করছে না!
º তুমি থানায় ডায়ারি লিখিয়েছ? কোন থানার অন্তর্ভূক্ত তোমার এলাকা?
: জানি না!
º মানে কী? ট্রিপল নাইনে ফোন করো, ওরাই জানিয়ে দেবে কোন থানার অন্তর্ভূক্ত তোমার এলাকা।
: দেবে না।
º কেন দেবে না, শুনি?
: তুমি ‘অন্তর্ভুক্ত’ বানান ভুল করে ঊ-কারে ‘অন্তর্ভূক্ত’ লিখেছ, তাই।
º উঃ! তুমি একটা যাচ্ছেতাই! সেলফোন চুরি গেছে, তারপরও হেঁয়ালি কমে না! শুধু বানান নিয়েই আছে। এখনই ট্রিপল নাইনে ফোন করো। আর শোনো, ‘অন্তর্ভূক্ত’ বানান ঠিক আছে। অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে কী বানানে লেখা আছে, দেখেছ? ওখানেও লেখা আছে ট্রিপল নাইনের অন্তর্ভূক্ত।
: আরে বাবা! ওটি ভুল। মনে রাখবে ‘ভুক্ত’ সবসময় উ-কারে লিখতে হয়। না-হলে ভুক্তভোগী হতে হয়। বুঝেছ?
º হুম, বুঝেছি। এবার ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করো, তোমার এলাকা কোন থানার অন্তর্ভুক্ত। হয়েছে এবার?
: না, হয়নি।
º মানে কী? আমি তো শুধরে নিয়েছি। আবার লিখছি- অন্তর্ভুক্ত, অন্তর্ভুক্ত, অন্তর্ভুক্ত। এবার ফোন করো ট্রিপল নাইনে।
: কী করে করব? আমার তো ফোনই নেই!
º উঃ! অসহ্য। আমিই জানাচ্ছি কোন থানার অন্তর্ভুক্ত তোমার এলাকা।
Reviews (0)
Get specific details about this product from customers who own it.
This product has no reviews yet. Be the first one to write a review.
Books & Magazine
50-60% price reduction
Gadget & Electronics
Home & Appliance
Accessorise
Cleaning Supplies
Fashion & Lifestyle
Toys Kids & Baby
Health & Beauty
Super Sale